রকেট ওড়ে কীভাবে

রকেট কীভাবে গরম গ্যাস নিচে ছুড়ে ওপরে ওঠে—বেলুন, জ্বালানি, অক্সিডাইজার ও নিউটনের তৃতীয় সূত্র দিয়ে সহজ ব্যাখ্যা।

Ages 8-10 - 5 minute lesson - gentle - BN

Reviewed for child-safety · gentle by design · How our stories are made

Published 2026-06-26T12:23:35.583434

Lesson cover for রকেট ওড়ে কীভাবে

Quick answer

রকেট গরম গ্যাস প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে ছুড়ে দেয়, আর সেই উল্টো ধাক্কায় রকেট ওপরে ওঠে।

Lesson

রকেট ওড়ে কীভাবে: ধাক্কা, আগুন আর উড়ান

ভাবো তো, তুমি একটা বেলুন ফুলিয়ে মুখটা ছেড়ে দিলে। কী হবে? সাঁ করে পুরো ঘরে উড়ে বেড়াবে, তাই না? তুমি কিন্তু বেলুনটাকে ধাক্কা দাওনি। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বাতাসই ওকে সামনের দিকে ঠেলে দিল। ওই ছোট্ট বেলুনটা ঠিক একটা রকেটের মতোই কাজ করে, শুধু এর জোর একটু কম। রকেট কীভাবে কাজ করে, তার উত্তর ওই বেলুনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে!

এবার আসল কথায় আসি। একটা রকেটের পেটের ভেতর দুটো জিনিস থাকে—জ্বালানি আর অক্সিডাইজার। অক্সিডাইজার হলো এমন একটা রাসায়নিক, যা বাতাস ছাড়াই জ্বালানি পোড়াতে সাহায্য করে। একটা শক্ত ধাতব ঘরে, যাকে 'দহন প্রকোষ্ঠ' বা কম্বাশন চেম্বার বলে, এই দুটো মিশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। তৈরি হয় ভয়ংকর গরম গ্যাস। ভাবো তো, এই বিপুল গ্যাসের বেরোনোর জন্য যদি একটাই সরু পথ থাকে, তাও আবার একেবারে নিচের দিকে, যাকে 'নজল' বলে—তাহলে কী হবে?

গ্যাস প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে বেরিয়ে আসে। আর ঠিক এখানেই বিজ্ঞানের জাদুকর স্যার আইজ্যাক নিউটনের তৃতীয় সূত্র কাজ করে। সূত্রটা হলো—প্রত্যেক ধাক্কারই একটা উল্টো ধাক্কা থাকে। নিচে বেরোনো গ্যাস রকেটকে ঠিক ততটা জোরেই ওপরের দিকে ধাক্কা মারে। সোজা কথায়: গ্যাস যায় নিচে, রকেট ওঠে ওপরে। এটাই হলো রকেট ইঞ্জিনের আসল জাদু!

অনেকের ধারণা, আমরা হাঁটার সময় যেমন মাটিতে ধাক্কা দিই, রকেটও বুঝি বাতাসে ধাক্কা দিয়ে ওপরে ওঠে। কিন্তু মহাশূন্যে তো বাতাসই নেই, সেখানে রকেট চলবে কীভাবে? আসলে রকেটের গ্যাসের বাতাসের কোনো দরকার নেই। রকেট আর গ্যাস একে অপরকে উল্টো দিকে ঠেলে দেয়। ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখতে চাও? একটা চাকাওয়ালা চেয়ারে বসে ভারী একটা বই সামনের দিকে ছুড়ে দাও। দেখবে, তুমি চেয়ারসমেত পেছন দিকে পিছিয়ে গেছ! এর জন্য মাটি বা বাতাসের কোনো প্রয়োজন নেই।

এবার একটা মজার তথ্য দিই, যা বড়দেরও অবাক করে। ওড়ার সময় একটা রকেটের মোট ওজনের প্রায় ৯০ ভাগই থাকে শুধু জ্বালানি! বাকি ১০ ভাগ হলো রকেটের কাঠামো বা ইঞ্জিন। ইঞ্জিনিয়াররা আসলে একটা উড়ন্ত তেলের ট্যাংকার তৈরি করেন, যা ওড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের তেল পুড়িয়ে হালকা হতে থাকে। পরের বার টিভিতে রকেট লঞ্চ দেখলে জোরে জোরে বলবে: "গ্যাস যায় নিচে, রকেট ওঠে ওপরে!"

Lesson scenes

উড়ন্ত বেলুন

ভাবো তো, তুমি একটা বেলুন ফুলিয়ে মুখটা ছেড়ে দিলে। কী হবে? সাঁ করে পুরো ঘরে উড়ে বেড়াবে, তাই না? তুমি কিন্তু বেলুনটাকে ধাক্কা দাওনি। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বাতাসই ওকে সামনের দিকে ঠেলে দ

ভাবো তো, তুমি একটা বেলুন ফুলিয়ে মুখটা ছেড়ে দিলে। কী হবে? সাঁ করে পুরো ঘরে উড়ে বেড়াবে, তাই না? তুমি কিন্তু বেলুনটাকে ধাক্কা দাওনি। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বাতাসই ওকে সামনের দিকে ঠেলে দিল। ওই ছোট্ট বেলুনটা ঠিক একটা রকেটের মতোই কাজ করে, শুধু এর জোর একটু কম। রকেট কীভাবে কাজ করে, তার উত্তর ওই বেলুনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে!

ইঞ্জিনের ভেতরে

এবার আসল কথায় আসি। একটা রকেটের পেটের ভেতর দুটো জিনিস থাকে—জ্বালানি আর অক্সিডাইজার। অক্সিডাইজার হলো এমন একটা রাসায়নিক, যা বাতাস ছাড়াই জ্বালানি পোড়াতে সাহায্য করে। একটা শক্ত ধাতব ঘরে

এবার আসল কথায় আসি। একটা রকেটের পেটের ভেতর দুটো জিনিস থাকে—জ্বালানি আর অক্সিডাইজার। অক্সিডাইজার হলো এমন একটা রাসায়নিক, যা বাতাস ছাড়াই জ্বালানি পোড়াতে সাহায্য করে। একটা শক্ত ধাতব ঘরে এই দুটো মিশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। তৈরি হয় ভয়ংকর গরম গ্যাস। এই বিপুল গ্যাসের বেরোনোর জন্য একটাই সরু পথ থাকে, তাও আবার একেবারে নিচের দিকে, যাকে 'নজল' বলে।

গ্যাস নিচে, রকেট ওপরে

গ্যাস প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে বেরিয়ে আসে। আর ঠিক এখানেই বিজ্ঞানের জাদুকর স্যার আইজ্যাক নিউটনের তৃতীয় সূত্র কাজ করে। সূত্রটা হলো—প্রত্যেক ধাক্কারই একটা উল্টো ধাক্কা থাকে। নিচে বেরোন

গ্যাস প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে বেরিয়ে আসে। আর ঠিক এখানেই বিজ্ঞানের জাদুকর স্যার আইজ্যাক নিউটনের তৃতীয় সূত্র কাজ করে। সূত্রটা হলো—প্রত্যেক ধাক্কারই একটা উল্টো ধাক্কা থাকে। নিচে বেরোনো গ্যাস রকেটকে ঠিক ততটা জোরেই ওপরের দিকে ধাক্কা মারে। সোজা কথায়: গ্যাস যায় নিচে, রকেট ওঠে ওপরে। এটাই হলো রকেট ইঞ্জিনের আসল জাদু!

বাতাসের দরকার নেই

অনেকের ধারণা, আমরা হাঁটার সময় যেমন মাটিতে ধাক্কা দিই, রকেটও বুঝি বাতাসে ধাক্কা দিয়ে ওপরে ওঠে। কিন্তু মহাশূন্যে তো বাতাসই নেই, সেখানে রকেট চলবে কীভাবে? আসলে রকেটের গ্যাসের বাতাসের ক

অনেকের ধারণা, আমরা হাঁটার সময় যেমন মাটিতে ধাক্কা দিই, রকেটও বুঝি বাতাসে ধাক্কা দিয়ে ওপরে ওঠে। কিন্তু মহাশূন্যে তো বাতাসই নেই, সেখানে রকেট চলবে কীভাবে? আসলে রকেটের গ্যাসের বাতাসের কোনো দরকার নেই। রকেট আর গ্যাস একে অপরকে উল্টো দিকে ঠেলে দেয়। ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখতে চাও? একটা চাকাওয়ালা চেয়ারে বসে ভারী একটা বই সামনের দিকে ছুড়ে দাও। দেখবে, তুমি চেয়ারসমেত পেছন দিকে পিছিয়ে গেছ! এর জন্য মাটি বা বাতাসের কোনো প্রয়োজন নেই।

উড়ন্ত তেলের ট্যাংকার

এবার একটা মজার তথ্য দিই, যা বড়দেরও অবাক করে। ওড়ার সময় একটা রকেটের মোট ওজনের প্রায় ৯০ ভাগই থাকে শুধু জ্বালানি! বাকি ১০ ভাগ হলো রকেটের কাঠামো বা ইঞ্জিন। ইঞ্জিনিয়াররা আসলে একটা উড়ন্ত

এবার একটা মজার তথ্য দিই, যা বড়দেরও অবাক করে। ওড়ার সময় একটা রকেটের মোট ওজনের প্রায় ৯০ ভাগই থাকে শুধু জ্বালানি! বাকি ১০ ভাগ হলো রকেটের কাঠামো বা ইঞ্জিন। ইঞ্জিনিয়াররা আসলে একটা উড়ন্ত তেলের ট্যাংকার তৈরি করেন, যা ওড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের তেল পুড়িয়ে হালকা হতে থাকে। পরের বার টিভিতে রকেট লঞ্চ দেখলে জোরে জোরে বলবে: "গ্যাস যায় নিচে, রকেট ওঠে ওপরে!"

Key takeaways

  • গ্যাস যায় নিচে, রকেট ওঠে ওপরে।
  • রকেটের জ্বালানি পোড়াতে অক্সিডাইজার সাহায্য করে, তাই বাতাস ছাড়াও কাজ হয়।
  • ওড়ার সময় রকেটের ওজনের বড় অংশই জ্বালানি—প্রায় ৯০ ভাগ।

Mini quiz

  • রকেটকে আসলে কোন জিনিসটা ওপরের দিকে ঠেলে দেয়?
  • রকেটের ভেতর অক্সিডাইজার কেন থাকে?
  • ওড়ার সময় একটা রকেটের কতটা অংশ জুড়ে শুধু জ্বালানি থাকে?

Common questions

রকেট কি বাতাসে ধাক্কা দিয়ে ওড়ে?

না। রকেটের গরম গ্যাস নিচে বেরিয়ে যায়, আর রকেট উল্টো দিকে ওপরে ঠেলে ওঠে।

অক্সিডাইজার কী কাজ করে?

অক্সিডাইজার বাতাস ছাড়াই জ্বালানি পোড়াতে সাহায্য করে।

বেলুনের সঙ্গে রকেটের মিল কী?

বেলুন থেকে বাতাস বের হলে বেলুন উল্টো দিকে ছুটে যায়। রকেটেও গ্যাস বের হয়, আর রকেট উল্টো দিকে ওঠে।

Read-together tip

রকেট লঞ্চের ভিডিও দেখার সময় শিশুকে বলতে বলুন: “গ্যাস যায় নিচে, রকেট ওঠে ওপরে”—এতে ধারণাটি মনে থাকবে।